ছাদ থেকে সেচপাম্প ,সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে ৩ প্রতিষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি ঋণ তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এ অর্থের মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তহবিল বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাচ্ছে তিন প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে।অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে।
সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ তিন প্রতিষ্ঠানকে বার্ষিক ০.৫ শতাংশ সুদে দেওয়া হবে। এ ঋণের মেয়াদ ১০ বছর। এর মধ্যে প্রথম এক বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে গণ্য হবে।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলো সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বার্ষিক সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। নির্ধারিত এই সুদের মধ্যেই ফি ও অন্যান্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, পুরো অর্থ নতুন করে বাজেট থেকে বরাদ্দ করা হচ্ছে না। এর মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এমএসএমই খাতের থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করা হবে।
আর বাকি ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ থেকে সংস্থান করা হবে।
সরকারি তহবিলের অর্থ নির্দিষ্ট কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে
• ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ও নেট মিটারিং
• বাড়ির জন্য সোলার হোম সিস্টেম
• শিল্পকারখানার নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা
• সৌরচালিত সেচপাম্প
• ইনভার্টার ও ডিজিটাল মিটার
• ব্যাটারি ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা।
অর্থাৎ বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা কিংবা কৃষিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য এ অর্থায়ন ব্যবহার করা যাবে।

সরকারের যুক্তি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বেশি হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ের ওপর। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে বিকল্প হিসেবে দেখছে সরকার। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৫-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তহবিলের অর্থ ইচ্ছেমতো ব্যয় করা যাবে না। পুরোনো ঋণ পরিশোধ, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত কাজে অর্থ ব্যয় কিংবা প্রশাসনিক খরচে এই ঋণ ব্যবহার নিষিদ্ধ।
এ ছাড়া অনাদায়ী ঋণের ঝুঁকি বহন করতে হবে ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানকেই। তহবিল পরিচালনায় পৃথক ব্যাংক হিসাব রাখার পাশাপাশি প্রতি তিন মাসে অর্থ বিভাগকে অগ্রগতি জানাতে হবে। প্রতিবছর করতে হবে স্বাধীন বহির্নিরীক্ষাও।
সরকার আশা করছে, স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রাথমিক বিনিয়োগের বাধা কমবে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে শিল্প, কৃষি ও গৃহস্থালি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

