ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: অবৈধ বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ সময় তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড তাজা গুলি, চারটি ম্যাগাজিন, তিনটি স্মার্টফোন ও নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে মো. বারেক ব্যাপারীকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিরোলই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুজন বেপারী ও তার বড় ভাই মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি জানায়, বুধবার রাত ২টা ১০ মিনিটে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বরসংলগ্ন সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী লেনে চেকপোস্ট বসায় এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি দল। এ সময় কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘রিয়াজ পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসের যাত্রী বারেক ব্যাপারীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেখানো মতে বাসের মালামালের সঙ্গে থাকা পুরোনো ভাঙা কাঠের হারমোনিয়ামের ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড তাজা গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক জানান, অস্ত্রগুলো মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করতে বুধবার সকাল ৭টার দিকে এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জের একটি দল মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিরোলই এলাকায় সুজনের বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সুজন বেপারী ও তার বড় ভাই মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় তল্লাশি করে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং অস্ত্র বিক্রির ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাবনা জেলার মো. বারেক ব্যাপারী (৪৯), মুন্সীগঞ্জ জেলার সুজন বেপারী এবং মনির হোসেন (৪৫)। তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সুজনের বয়সের ক্ষেত্রে অসংগতি রয়েছে। এক স্থানে ৩২ বছর এবং অন্য স্থানে ৩৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

