নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহে তীব্র জ্বালানি সংকটে বিপাকে পড়েছেন যানবাহনচালকরা। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল থাকলেও পেট্রোল ও অকটেনের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, জেলার প্রায় ৫০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে খোলা রয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি। খোলা থাকা স্টেশনগুলোতেও প্রতিদিন সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না চাহিদামতো জ্বালানি।
ময়মনসিংহ টাউন হল মোড়ের একটি অটোমোবাইল পাম্পে নির্দিষ্ট করে মাত্র ৫০০ টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে। এতে সকাল থেকেই সেখানে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। অন্যদিকে, পুলিশ লাইন পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে সাধারণ গ্রাহকদের।
এদিকে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—ঘুষের বিনিময়ে ফিলিং স্টেশন থেকে ড্রাম ভর্তি করে জ্বালানি সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে সেই তেল খোলা বাজারে লিটারপ্রতি প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “পাম্পে তেল নেই বলা হলেও বাইরে বেশি দামে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে।”
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সব ধরনের পরিবহনে। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে মালবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল ও গণপরিবহন—সবখানেই দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্র হওয়ায় ময়মনসিংহে এই সংকটের প্রভাব জাতীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকেই জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দেশের বাজারে।
তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




