নিজস্ব প্রতিবেদক | ময়মনসিংহ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আনন্দ মোহন কলেজ–এর রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শাওন তার রুমমেট মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ (২৩)-কে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ–এর ওপারে ঘুরতে যান। সেখানে তারা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কবলে পড়েন। এ সময় রিয়াদ পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ হন।

সংবাদ পেয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স–এর সদস্যরা ব্রহ্মপুত্র নদ ও আশপাশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা নাহিদা আক্তার ওরফে সাহিদা বেগম ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। কোতোয়ালী মডেল থানা–তে মামলা নং–৩৮, তারিখ ১৯/০২/২০২৬ খ্রি., দণ্ডবিধি ১৮৬০–এর ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়।
পরবর্তীতে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)–এর তত্ত্বাবধানে ডিবি ও কোতোয়ালী মডেল থানার একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে।
এর ধারাবাহিকতায় ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে নেত্রকোনা সদর থানার সাতপাই এলাকা থেকে দেবরাজ বিন (১৪) এবং বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারতী এলাকা থেকে হৃদয় বিন (১৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে রাজ বিন (১৩), বিশাল বিন (১৫) ও বিপুল বিন (১৬)-কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়:
১। বিশাল বিন (১৪), পিতা–রাম বালক বিন
২। রাজ বিন (১৩), পিতা–নারায়ন বিন
৩। বিশাল বিন (১৫), পিতা–মুন্না বিন
৪। দেবরাজ বিন (১৪), পিতা–জগদীশ বিন
৫। হৃদয় বিন (১৫), পিতা–জিতেন বিন
৬। বিপুল বিন (১৬), পিতা–মুন্না বিন
সকলের ঠিকানা: চর জেলখানা (বিনপাড়া), থানা–কোতোয়ালী, জেলা–ময়মনসিংহ।
পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।




