পাহাড়ে অস্থিরতা: খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সহিংসতা দমনে সেনাবাহিনীর বিবৃতি

0
448

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (সোমবার):
খাগড়াছড়ি ও গুইমারা এলাকায় টানা কয়েকদিন ধরে চলা সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নিয়ে সেনাবাহিনী আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও এর অঙ্গসংগঠনসমূহ পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দিচ্ছে।

পুরনো ঘটনার জের

গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মোটরসাইকেল চালক মামুন হত্যাকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফের তৎপরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। সেই ঘটনার এক বছর পূর্তিতে এ বছরও ইউপিডিএফ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মিছিল আয়োজন করে।

নতুন করে অস্থিরতা

গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলাটি চলমান থাকা সত্ত্বেও ইউপিডিএফ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও হরতালের ডাক দেয়। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি ব্লগার ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অনলাইনে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালান।

২৬ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালে উশৃঙ্খল জনতা সেনা টহল দলের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে তিন সেনা সদস্য আহত হন। সেনাবাহিনী তখনও ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

সহিংসতায় রূপ

গত ২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি পৌরসভা এলাকায় ইউপিডিএফের কর্মীরা দাঙ্গার চেষ্টা চালায়। তারা সাধারণ মানুষের ওপর গুলি, ভাঙচুর, অ্যাম্বুলেন্সে হামলা এবং রাস্তা অবরোধ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলে। দুপুর নাগাদ বিষয়টি পাহাড়ি-বাঙালির সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নেয়। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেদিন রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

গুইমারায় সংঘর্ষ

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ইউপিডিএফ গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবরোধের ডাক দেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের সঙ্গে স্থানীয় বাঙালিদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সেনা সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে ইউপিডিএফ কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৩ জন সেনা কর্মকর্তা ও ১০ জন সদস্য আহত হন। বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

১১টা ৩০ মিনিটে পাশের পাহাড় থেকে ইউপিডিএফ সশস্ত্র দল অটোমেটিক অস্ত্র দিয়ে ১০০–১৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে, যাতে পাহাড়ি-বাঙালি ও সেনা সদস্যসহ বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়। সেনাবাহিনী ধাওয়া দিলে সশস্ত্ররা পালিয়ে যায়। এসময় ইউপিডিএফের বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা বাজার ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র

সেনাবাহিনী জানায়, ইউপিডিএফ ও তাদের সহযোগীরা মহিলাদের ও স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বাধ্য করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার চেষ্টা চালাচ্ছে। একইদিন বিকালে বিজিবির কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন চেকপোস্টে ইউপিডিএফের পরিবহনকৃত বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে জব্দ করে।

সেনাবাহিনীর আহ্বান

সেনাবাহিনী বলেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র চলছে। এ বিষয়ে প্রমাণাদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের সব রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ জনগণকে সংযমী আচরণের আহ্বান জানিয়েছে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী জোর দিয়ে বলেছে, সব ধরনের অপপ্রচার ও উস্কানি সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here