শীতের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ততই শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দেখা দেয়। বিশেষ করে শহুরে জীবনে, যেখানে মানুষ চার দেয়ালের মধ্যে বেশি সময় কাটান, সেখানে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট। কারণ, এই সময়ে দিন ছোট হয়, সূর্যের আলো সরাসরি পড়ে না এবং মানুষ গরম কাপড়ে মোড়া থাকেন—ফলে ত্বকে রোদের স্পর্শ কম লাগে।
যেহেতু সূর্যের আলোই ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস, তাই রোদ কম পেলে শরীরে এর মাত্রাও হ্রাস পায়। এর ফলে ক্লান্তি, শরীরব্যথা, মনমরা ভাব, এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। তাই অনেকে ভিটামিন ডি-এর ক্যাপসুল গ্রহণ করেন। তবে প্রাকৃতিকভাবে রোদ থেকে ভিটামিন ডি পেতে চাইলে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
সম্প্রতি দিল্লির চিকিৎসক ও ক্যানসার ইমিউনোথেরাপিস্ট ডা. জামাল খান একটি ভিডিও বার্তায় এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান—
“সূর্যের আলোয় সরাসরি ভিটামিন ডি থাকে না। রোদ লাগার পর শরীরের ভেতরে এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। আর এই প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হয়।”
নিচে তিনি যে চারটি মূল পরামর্শ দিয়েছেন তা তুলে ধরা হলো—
১. সময়
ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে। তাই রোদে থাকার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে—এই সময়েই UV রশ্মির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
২. পোশাক
অনেকেই মনে করেন, কেবল খোলা ত্বকে সূর্যের আলো পড়লেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। কিন্তু তা পুরোপুরি সত্য নয়। হালকা সুতির পোশাক পরেও একইভাবে ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব।
৩. শরীরের কোন অংশে রোদ লাগাবেন
ভিটামিন ডি সবচেয়ে বেশি শোষিত হয় কোমর বা পিঠের অংশে। তাই সূর্যের দিকে পিঠ করে দাঁড়িয়ে কোমরে রোদ লাগানো সবচেয়ে কার্যকর।
৪. সময়কাল
ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য টানা ১৫ মিনিট রোদে থাকা যথেষ্ট, যদি উপরের তিনটি শর্ত পূরণ হয়। প্রতিদিন নিয়মিত এই সময়টা রোদে থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি সহজেই পূরণ হতে পারে।
ডা. জামাল বলেন,
“আমরা প্রায়ই সময়ের অভাবে বা অজানার কারণে রোদে যাই না। অথচ প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট রোদে থাকলেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ সম্ভব।”
সুতরাং, ভিটামিন ডি’র অভাব দূর করতে সূর্যের আলোকে বন্ধু করুন — প্রতিদিন কিছুটা সময় রোদে থাকুন, সুস্থ থাকুন।




