নিজস্ব প্রতিবেদক , ময়মনসিংহ:
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ময়মনসিংহে এসে নামেন শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র মাসকান্দা বাস টার্মিনালে। কিন্তু টার্মিনালে পা রাখতেই এর জরাজীর্ণ পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি হচ্ছে যাত্রীদের মনে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় থাকা এই টার্মিনালে নেই পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও সেবার মান। জায়গার স্বল্পতার কারণে বাসগুলো গাদাগাদি করে রাখা হয়, অনেক বাস আবার বাধ্য হয়ে সড়কের ওপরই পার্কিং করতে হয়। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে যানজট, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
টার্মিনালের ভেতরের পরিবেশও অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও পানিতে ভরে যায় পুরো এলাকা। প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে ভেতরের অংশ পর্যন্ত চলাচল দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। টার্মিনালের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে ওয়ার্কশপ ও বিভিন্ন দোকানপাট, ফলে আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে এর পরিসর।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবও স্পষ্ট। দিন-রাত বখাটেদের আড্ডায় অস্বস্তিতে থাকেন যাত্রীরা। নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বসার জায়গা বা মানসম্মত টয়লেট। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ঢাকাগামী যাত্রী সিরাজ উদ্দিন বলেন, “অল্প বৃষ্টিতেই টার্মিনালে পানি জমে যায়। কাদা মাড়িয়ে ঢুকতে হয়, এতে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আরসিসি ঢালাই হলে এই সমস্যা কমত।”
আরেক যাত্রী আশরাফুল আলম জানান, ভোরে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অন্ধকারে। “এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলেও পর্যাপ্ত লাইট বা নিরাপত্তা নেই,” বলেন তিনি।
নারী যাত্রী মুনমুন সরকারের অভিযোগ, বসার জায়গা না থাকায় শিশুকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। “একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও সেটি নোংরা এবং নারী-পুরুষ সবাইকে ব্যবহার করতে হয়, যা বিব্রতকর,” বলেন তিনি।
পরিবহন শ্রমিক মান্নান বলেন, জায়গার অভাবে বাসগুলো সড়কে রাখতে হয়। “নিয়মের মধ্যে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে,” যোগ করেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ অভিযোগ করেন, আধুনিকায়নের নামে একাধিকবার কাজ হলেও নিম্নমানের কারণে তা টেকেনি। “ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে থাকে, যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে,” বলেন তিনি।
তবে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন। তিনি বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে টার্মিনাল আধুনিকায়ন করা হবে।
তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে— নারী-পুরুষের জন্য আলাদা এসি বিশ্রামাগার, উন্নত টয়লেট, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ড্রেনেজ উন্নয়ন এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য আন্ডারপাস ড্রেন নির্মাণ। এছাড়া যাত্রীদের জন্য বসার ব্যবস্থা ও সৌন্দর্যবর্ধনে একটি পার্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিভাগীয় শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটি দ্রুত আধুনিকায়ন করা না হলে যাত্রী দুর্ভোগ আরও বাড়বে।




