এবারের ঈদে ভয়াবহ পরিবহন সংকটের মুখে পড়তে পারেন গাজীপুরের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক। প্রতি বছর তারা গাজীপুর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় গ্রামীণ বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসে যাতায়াত করেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সরকারকে অন্তত ৫০০ বিআরটিসি এবং ৫০০ বেসরকারি কোম্পানির বাস বরাদ্দের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলগামী বাসের টিকিট দ্রুত শেষ হওয়ায় চন্দ্রার কাউন্টারগুলোতে এখন কোনো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশও সম্প্রতি চন্দ্রার উত্তরাঞ্চলগামী সব বাস কাউন্টার সরিয়ে দিয়েছে। ফলে আশুলিয়া ইপিজেড, চন্দ্রা, বাইপাইলসহ গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৪৫–৫০ লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য কার্যত কোনো সরকারি পরিবহন সুবিধা পাচ্ছেন না।
এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা ২০–৩০ জন করে ট্রাক, পিকআপ বা ঢাকার লক্কড়-ঝক্কড় সিটি সার্ভিসের বাস ও মিনিবাস ভাড়া করে যাত্রা করছেন। যদিও সরকার প্রতি বছর ঈদে লক্কড়-ঝক্কড় বাস ও খোলা ট্রাক-পিকআপে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ করে, তবু তৈরি পোশাক ও অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বাস ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় না।
সংগঠনের ধারণা, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে ৮ লাখ, গাজীপুর থেকে ৩ লাখ এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে ২ লাখ পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছাবে। এতে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে গাজীপুরের শ্রমিকদের জন্য অন্তত ৫০০ বিআরটিসি এবং ৫০০ বেসরকারি কোম্পানির বাস বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।




