​গৌরীপুরে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে তাণ্ডব ও লুটপাট, রাজনৈতিক প্রভাবে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

0
208

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬

​ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি নিরীহ পরিবারের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মধ্যযুগীয় কায়দায় ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাসীদের ভয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

09e9fe65 bfc5 448d 8f14 05ba8ad1890d


​
​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর মইলাকান্দা ইউনিয়নের শৌলঘাই গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ একেএম আব্দুল হেকিম মাস্টারের বাড়ি এবং তাদের পরিবারের গোবিন্দপুর বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র একদল দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও ব্যবসার মালামাল লুট করে নেয়। বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িটিতে কেবল বৃদ্ধ হেকিম মাস্টার ও কয়েকজন নারী অবস্থান করছেন; বাকিরা প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
​

a07113f6 9186 4ee7 bb9a e6fbf81ebdc1


​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘ দিন ধরে তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল রাজ্জাকের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই তাণ্ডব চালানো হয়। হামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নজরুল ইসলাম (বাদশা), আব্দুল মালেক মাস্টার, রাকিব আল হাসান, সাকিব আল হাসান, আতাউর রহমান, উজ্জ্বল মিয়া, আবুল মুতালিব ফকিরসহ ২০-২৫ জনের একটি বাহিনীর নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Screenshot 2026 04 01 165007


​
​চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু তারা হামলাকারীদের গ্রেফতার না করে নীরব ভূমিকা পালন করে।
​অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত আব্দুল রাজ্জাক স্থানীয় বিএনপির প্রভাশালী নেতা এবং গৌরীপুর থেকে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী ইকবাল সাহেবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই ‘মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ’ প্রভাব ও ‘দ্বিমুখী’ রাজনৈতিক শক্তির ভয়ে পুলিশ নতিস্বীকার করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। তবে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।


​
​ভুক্তভোগী মো. শামসুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হামলার পরপরই পুলিশ এসেছিলো, কিন্তু তারা কিছুই করেনি। এখন থানায় যেতেও আমাদের ভয় হচ্ছে।” সরেজমিনে দেখা গেছে, হেকিম মাস্টারের বাড়িতে এখনও আতঙ্কের বীভীষিকা। ঘরবাড়িতে অজস্র কোপানোর দাগ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে এলাকাবাসীও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
​প্রতিকার ও হস্তক্ষেপের দাবি
​ভুক্তভোগী পরিবারটি এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বাঁচতে গৌরীপুর আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেইনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই প্রভাবশালী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here