নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন হাজারো মানুষ। একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে গেলে নেমে আসে অন্ধকার। অথচ অনেকেরই অজানা—এই ধরনের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারের একটি নির্ধারিত তহবিল রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) পরিচালিত Accident Compensation Trust Fund (ACTF) থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তবে সচেতনতার অভাব ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অধিকাংশ ভুক্তভোগী পরিবার এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে। এছাড়া গুরুতর আহতদের জন্য ১ থেকে ৩ লাখ টাকা এবং সাধারণ আহতদের জন্য তুলনামূলক কম পরিমাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। তবে এই অর্থ নির্দিষ্ট নয়; প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
ক্ষতিপূরণ পেতে হলে প্রথমেই দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা দায়ের করতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—মৃত্যুর ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট, ওয়ারিশ সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পুলিশ রিপোর্ট এবং দুর্ঘটনার প্রমাণাদি সংগ্রহ করতে হয়। আবেদনকারীকে নির্ধারিত Form-32 পূরণ করে BRTA’র সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা দিতে হয়।
এ ক্ষেত্রে সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে আবেদন গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে, যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে তা বিবেচনার সুযোগ থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার পর পরিবারগুলো আইনি প্রক্রিয়া ও তথ্যের অভাবে এই সহায়তার কথা জানতে পারেন না। আবার কেউ কেউ জটিল কাগজপত্র ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে মাঝপথেই হাল ছেড়ে দেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তহবিল কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হলে প্রয়োজন ব্যাপক প্রচার ও সহজতর প্রক্রিয়া। না হলে সড়কে প্রাণ হারানো মানুষের পরিবারের জন্য ঘোষিত সহায়তা কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।




