সত্যায়নের অপমান থেকে নিজে সত্যায়নের দায়িত্বে: শাহীন আলমের কাহিনী

0
436

ময়মনসিংহের শাহীন আলম এক সময় সত্যায়নের জন্য সার্টিফিকেট সত্যায়িত করতে গিয়ে চরম অপদস্থ ও অসম্মানের শিকার হয়েছেন। ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যয়নরত অবস্থায় উপজেলার তৎকালীন ভেটেরিনারি সার্জনের কাছে সার্টিফিকেট সত্যায়িত করার সময় তাকে যে অপমান ভোগ করতে হয়েছে, তা আজও ভুলেননি।

কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই শাহীন আলমই এখন নিজে সত্যায়নের দায়িত্বে। ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে গত ১ মার্চ যোগদান করেছেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে তিনি ফেসবুকে স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, “অপমানিত সেই মুহূর্ত এখনো ভুলতে পারিনি, হয়তো কখনো পারব না। অথচ আজ আমি সেই দায়িত্ব পালন করছি—সত্যায়িত করার সুযোগ পেয়েছি। এটাকেই বলে বিধাতার লীলা। তাই কাউকে কখনো ছোট করে দেখা উচিত না।”

শাহীন আলম আরও জানিয়েছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সত্যায়িত করার এই প্রথার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এটি বাতিল হলে চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্র-ছাত্রীদের হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে। তবু যতদিন এটি থাকবে, জনগণকে সেবা দিতে তিনি সর্বদা প্রস্তুত।

তিনি জানিয়েছেন, “প্রিয় অনুজ বা পরিচিত কারও যদি সত্যায়িত করার প্রয়োজন হয়, নির্দ্বিধায় আসতে পারেন। সত্যায়নের সঙ্গে সঙ্গে চা খাওয়ারও দাওয়াত রইলো। আর আমি যেখানেই থাকি না কেন, আপনার জন্য সবসময় ব্যাগে একটি সিল রাখবো, ইনশাআল্লাহ্।”

শাহীন আলমের এই গল্প শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং সময়ের সাথে মানুষের পরিবর্তনশীল অবস্থান এবং ধৈর্য, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মূল্যকেও সামনে নিয়ে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here