নিজস্ব প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় নির্মাণের ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় একটি সেতু আজও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়ে আশপাশের অন্তত ৮ গ্রামের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও।
উপজেলার মাইজবাগ ও মগটুলা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কাতলা বিল ও শিঙ্গা বিলের মাঝে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এ সেতুর ওপর নির্ভরশীল গ্রামগুলো হলো— বানাশ্রম, ভাসা গোকুলনগর, চরশংকর, কদুখালি, সাধরগোলা, রঘুদেরপুর, কর্মা ও বল্লবপুর।
স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমে বিল পেরিয়ে হেঁটে চলাচল সম্ভব হলেও বর্ষাকালে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। অথচ সেতুটি ব্যবহার করতে পারলে মাত্র তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেই ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কে পৌঁছানো সম্ভব।

এলাকাবাসীর দাবি, ২০০৩ সালে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কসহ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন সংস্থা (আইএফএডি)-এর অর্থায়নে প্রায় ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করে।
তবে নির্মাণের পর থেকেই সড়কটি টেকসই না হওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ সড়ক ভেঙে গিয়ে বর্তমানে তা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ফলে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না এবং সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে।
স্থানীয় কৃষক আবুল ফজল বলেন, “দুই ইউনিয়নের সীমান্তে সেতুটি হওয়ায় কোনো পক্ষই সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নেয়নি। এতে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
কদুখালি ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যেতে এই পথে যেতে হয়। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রয়োজন।”
এলাকার শিক্ষার্থীরাও জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের সময় সেতুটি ব্যবহার করতে গিয়ে তারা প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ে।
এদিকে, সড়ক যোগাযোগ না থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশকেও।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেল বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে বিষয়টি কিছুদিন আগে অবগত হয়েছি। দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা সেতুটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।




