নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
আসন্ন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন (মসিক) নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকের মাঝে আলোচনায় রয়েছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) শাখার সাবেক আহ্বায়ক মো. সালাউদ্দিন তিতু। দলটির তৃণমূলের একাংশ তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুলজীবন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সালাউদ্দিন তিতু দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে তিনি বেশ কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন কাটান। ওই সময়ে সরাসরি মাঠে না থাকলেও প্রবাস থেকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেন বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করেন।
সালাউদ্দিন তিতুর পারিবারিক পরিচিতিও স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচিত। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ পারিবারিক সংযোগ নগর রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর বড় ভাই মো. শরাফ উদ্দিন কোহিনূর জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি, সালাউদ্দিন তিতুর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ নেই। এই ‘ক্লিন ইমেজ’ তাঁকে সাধারণ ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে বলে তাঁদের অভিমত।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নগরবাসীর মধ্যে সৎ ও জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্বের প্রত্যাশা বেড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সালাউদ্দিন তিতু ইতোমধ্যে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে মতবিনিময়, গণসংযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “সিটি কর্পোরেশন শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি নাগরিক সেবার কেন্দ্র হওয়া উচিত। আমরা একটি জবাবদিহিতামূলক নগর প্রশাসন গড়তে চাই।” দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ত্যাগ বিবেচনায় নেবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা গুরুত্ব পাবে। তবে এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন সিটি নির্বাচনকে বিএনপি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। চূড়ান্ত মনোনয়ন ও প্রার্থিতা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নগর রাজনীতিতে আলোচনা-জল্পনা অব্যাহত থাকবে।




