নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনায় আইনজীবী মহলে তীব্র আলোচনা, ক্ষোভ ও চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে প্রার্থিতা বাতিলের এ সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সমিতির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও এডহক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল বারী স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়, ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১৩ এপ্রিল প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে ১৫ এপ্রিল যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা “যোগ্যতাসম্পন্ন না থাকায়” এবং “ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত” হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা
সভাপতি পদে:
বদর উদ্দিন আহমেদ
সহ-সভাপতি পদে:
মোঃ দিদারুল ইসলাম (দিদার)
এ.কে.এম. কামাল হোসেন খান
মিজানুর রহমান তালুকদার
সাধারণ সম্পাদক পদে:
মোঃ এমদাদুল হক
সহ-সম্পাদক পদে:
সাইফুল ইসলাম
মোঃ কামরুল ইসলাম
ছাবিরা হক
অডিটর পদে:
ইস্তিয়াক আহমেদ ইমন
সদস্য পদে:
এ.কে.এম. মুনিম আহমেদ (সেলিম)
রফিকুল ইসলাম ফকির
সাবিহা সুলতানা জেরিন
এম. কামরুল হাসান সরকার
আব্দুল্লাহ আল নাসিম
ফুয়াদ হাসান নিউটন
তানিয়া আক্তার রেশমি

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনে ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ এমন রাজনৈতিক আখ্যা ব্যবহার করে মনোনয়ন বাতিলের কোনো আইনগত ভিত্তি রয়েছে কি না।
আইনজীবী মহলের একটি অংশের মতে, নির্বাচন একটি পেশাগত ও নির্দলীয় প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রার্থিতা বাতিল করা হলে তা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
এদিকে, এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, যা পুরো বিষয়টিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করল কি না তা নিয়েও আদালতপাড়ায় চলছে আলোচনা।




