​ময়মনসিংহে মাটির নিচে চাপা পড়ছে রেলের কোটি টাকার সম্পদ, দখল হচ্ছে জমি

0
217

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ। রেললাইনের মূল্যবান সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ মাটির নিচে চাপা পড়ে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে, রেলের বিস্তীর্ণ জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে হাটবাজার ও দোকানপাট। মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চললেও প্রভাবশালী মহলের দাপটে মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান।

WhatsApp Image 2026 04 07 at 01.39.21

সরেজমিনে শহরের পাটগুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক সময়ের ব্যস্ত রেললাইন এখন মাটির নিচে। ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় এই দশা হয়েছে। এই সুযোগে লাইনের ওপর গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। দখলকারীদের একজন জানান, “জায়গা খালি পড়ে আছে দেখে দোকান করেছি। কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা চলে যাব।”
​একই চিত্র শহরের মিন্টু কলেজ সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকায়। সেখানে রেললাইন ভরাট করে কার্পেটিং দিয়ে রাস্তা বানানো হয়েছে। কোথাও কোথাও মাটির নিচ থেকে উঁকি দিচ্ছে রেলের লোহার পাত। এসবের ওপর বীরদর্পে চলছে কাঁচা বাজার ও চায়ের দোকান।

WhatsApp Image 2026 04 07 at 01.39.23


​
শুধু রেললাইন নয়, খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশেও জং ধরে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত বগিগুলোতে এখন নিয়মিত বসে মাদকের আড্ডা আর অসামাজিক কার্যকলাপ। এসব দেখেও রেল কর্তৃপক্ষ না দেখার ভান করে আছে বলে অভিযোগ নাগরিক সমাজের।
​
জেলা নাগরিক আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, “ব্রিটিশ আমলে রেলের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সরকারগুলোর অবহেলায় তা স্থবির হয়ে পড়েছে। যেখানে ডাবল লাইন হওয়ার কথা, সেখানে পুরাতন লাইন বন্ধ করে সম্পদ নষ্ট করা হচ্ছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, শহরের বাইরে আধুনিক বিভাগীয় রেল স্টেশন ও ডাবল ব্রডগেজ লাইন নির্মাণ করার। রেলের অপচয় হওয়া সম্পদ কাজে লাগালেই এই উন্নয়নের খরচ উঠে আসবে।”
​পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন প্রশ্ন তোলেন, “রেল কর্তৃপক্ষ কেন নীরব? এত অনিয়ম চোখের সামনে ঘটলেও তারা কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? রেলের সম্পদ রক্ষা করে দ্রুত ময়মনসিংহ-সিলেট ও ময়মনসিংহ-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালু করা সময়ের দাবি।”
​
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, পুরাতন লাইন বা সম্পদ নিয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। তিনি বলেন, “এখানে রেলের অনেক বিভাগ জড়িত। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পনা করতে হয়। তবে অনেক জায়গায় পুরাতন পাতগুলো নিরাপত্তা বা বাঁধের কাজে পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে। রেলের জায়গা উদ্ধারে আমাদের নিয়মিত অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।”

​রাষ্ট্রীয় সম্পদের এই অপচয় রোধ করে দ্রুত রেলের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা ময়মনসিংহবাসীর।

WhatsApp Image 2026 04 07 at 01.39.22

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here