রকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই বন ব্যবস্থাপনার আহ্বান
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে “ময়মনসিংহ বিভাগের বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর ২০২৫) ময়মনসিংহ নগরীর গ্রীন পয়েন্ট ট্রেনিং সেন্টারের হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার পরিবেশকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ময়মনসিংহ বিভাগের স্থানীয় সরকার উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “বন আমাদের পরিবেশের ফুসফুস। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার এখন সময়ের দাবি।” তিনি সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বনজ সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো: আল মাহমুদ বলেন, “ময়মনসিংহ অঞ্চলের বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্যের আধার। এগুলো হারিয়ে গেলে সমগ্র অঞ্চলের পরিবেশ বিপন্ন হবে।”

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা ও জনসচেতনতা ছাড়া বন রক্ষা সম্ভব নয়। তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের পরিবেশ সাংবাদিকতায় আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাইদুল ইসলাম বলেন, “উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সময় পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, “বন পুনরুদ্ধারে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বন শুধুমাত্র কাঠের উৎস নয়, এটি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার প্রধান উপাদান।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেলিমা বেগম। তিনি বলেন, “শুধু গাছ লাগানো নয়, গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
স্বাগত বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে পরিবেশকর্মীদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও নেটওয়ার্কিং আরও শক্তিশালী হবে।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বেলার ফিল্ড সমন্বয়ক এ এম এম মামুন বলেন, বনের আইনি সুরক্ষায় বেলার দীর্ঘদিনের ভূমিকা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. মো: আব্দুল আওয়াল। তিনি বলেন, “ময়মনসিংহের গারো পাহাড় ও চরাঞ্চলের বনভূমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এগুলো সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার জরুরি।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব বনের সুরক্ষায় বেলা পরিচালিত বিভিন্ন মামলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত হলে অবৈধ দখল ও বন ধ্বংস রোধ করা সম্ভব।”
এছাড়া মধুপুর বনাঞ্চল প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, “আদিবাসীরা বনকে মা মনে করে। বন ছাড়া আমাদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব দুটোই বিপন্ন হয়ে পড়ে।”
কর্মশালায় বক্তারা আরও বলেন, বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কেবল পরিবেশ নয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বন রক্ষা মানেই মানবজীবন রক্ষা।

