ভয়াবহ হামের প্রকোপ: হাসপাতালে ক্যানুলা-নলে জীবনযুদ্ধে হাজারো শিশু

0
443

দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হাম। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ক্যানুলা ও নাকে নল লাগিয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে অসংখ্য শিশু। আইসিইউ সংকট, বেডের অভাব ও চিকিৎসা ব্যবস্থার চাপে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

মুন্সিগঞ্জের অটোচালক আবু সাইদের সাত মাস বয়সী ছেলে ইউসুব নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর হাসপাতালেই হামে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে তার মাথায় ক্যানুলা, নাকে অক্সিজেন পাইপ এবং নলের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হলেও মিলছে না শয্যা।

একই চিত্র দেখা গেছে অন্য পরিবারগুলোতেও। পাঁচ দিন আগে যমজ কন্যার একজনকে হারিয়েছেন জাকির হোসেন। অন্য সন্তান এখনও আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। দুই মাস বয়সী আয়মানসহ আরও অনেক শিশু ক্যানুলা ও অক্সিজেনের সহায়তায় চিকিৎসাধীন, যাদের অনেকেই খেতেও পারছে না।

মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও রোগীর চাপ চরমে। ১০০ শয্যার বিপরীতে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের ৬০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিনই ৭৫টির বেশি শিশু ভর্তি হচ্ছে। আইসিইউর ১৪টি বেড সবসময় পূর্ণ থাকায় গুরুতর রোগীরাও সেবা পাচ্ছে না।

চিকিৎসকরা জানান, তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের মুখে খাবার দিলে তা শ্বাসনালীতে ঢুকে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তাই অনেক ক্ষেত্রেই নাকে নল দিয়ে খাবার দিতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে নিশ্চিতভাবে ৩০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৫৬ জন। একই সময়ে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ২,৭২১ এবং সন্দেহভাজন আক্রান্ত ১০,৯৫৪ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকা বিভাগের পরই রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। ছয় মাস বয়স থেকেই টিকা প্রদান শুরু করা হয়েছে এবং দেশব্যাপী প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা ও হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here