বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে চিন্তিত ভারতীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা

0
214

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা নিয়ে সেগুলো দিয়ে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করলে এ খাতে বাংলাদেশকে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এমন শর্তে চুক্তি হওয়ার পর চিন্তিত হয়েছে পড়েছেন ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকরা। বিশেষ করে ভারতের তুলা শিল্পে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ আগে ভারত থেকে বাংলাদেশ বেশি তুলা কিনলেও; এখন মার্কিন তুলার দিকে ঝুঁকবে ঢাকা।

সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপের পর ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতামূলক সুযোগের আশা করছিলেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে বলা হয়েছে “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি ব্যবস্থা শুরু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো নির্দিষ্ট কিছু তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য কোনো আমদানি শুল্ক ছাড়াই সে দেশে প্রবেশ করতে পারবে। তবে এই সুবিধার আওতায় কতটুকু পণ্য পাঠানো যাবে, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কতটুকু টেক্সটাইল কাঁচামাল যেমন— তুলা বা কৃত্রিম তন্তু আমদানি করছে তার ওপর। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যত বেশি কাঁচামাল কেনা হবে, তার অনুপাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য বিনা শুল্কে সেখানে রপ্তানি করার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।”

দ্য হিন্দু বলেছে, ২০২৪-২৫ সালে বাংলাদেশে ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের তুলার সুতা রপ্তানি করেছে ভারত। যা তাদের মোট সুতা রপ্তানির সবচেয়ে বেশি ছিল। গত বছর বাংলাদেশে ভারত ১২ থেকে ১৪ লাখ বেল তুলা রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশ যে পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করে তার ২০ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে। অপরদিকে ভারতীয় তুলা দিয়ে তৈরি ২৬ শতাংশ পণ্য ঢোকে মার্কিন বাজারে।

কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি জেনারেল চন্দ্রিমা চ্যাটার্জি বলেছেন, “আমার ভয় তাৎক্ষণিক (নেতিবাচক) প্রভাব পড়বে ভারতের তুলার সুতার ওপর। কারণ বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা কিনতে পারবে এবং টেক্সটাইল মিলে সেগুলো থেকে তুলা উৎপাদন করতে পারবে।”

তিনি বলেনম “বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা সুতা তৈরিতে ১০০ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করতে পারে এবং বলতে পারে ১০০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এটি নিরূপণ করতে পারবে। বাংলাদেশ যেহেতু তৈরি পোশাকে অনেক শক্তিশালী। আমরা হয়ত হেরেও যেতে পারি।”

ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স ন্যাশনাল কমিটি অন টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় কে জৈন বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পোশাক (নিট এবং ওভেন উভয়ই) আমদানি করবে। এর ফলে ১০০ শতাংশ সুতির পণ্য যেমন—টি-শার্ট এবং মেয়েদের টপস রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত তার প্রতিযোগিতার ক্ষমতা হারাবে।”

তবে কিছু কিছু ভারতীয় ব্যবসায়ী আবার আশা হারাতে চান না। তারা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা এনে সেখান থেকে সুতা তৈরি করে পোশাক বানিয়ে সেটি রপ্তানি করতে বাংলাদেশকে লজিস্টিকগত সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। যা দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ।

সূত্র: দ্য হিন্দু

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here