ইরানে ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

0
196

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশটিতে ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার পেন্টাগন-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর দশ দিন পর আজ (মঙ্গলবার) ইরানের ওপর সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হতে পারে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান আগের তুলনায় সবচেয়ে কম অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন।

সংঘাতের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে জেনারেল কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী তিনটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। সেগুলো হলো—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা, ইরানের নৌবাহিনীকে দুর্বল করা এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধের শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের মাইন স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই সংঘাতের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই যাবে এবং দেশটি ইরানের ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল’ মেনে নেবে না।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর ‘২০ গুণ বেশি শক্তিতে’ আঘাত হানা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীও সেই সতর্কবার্তার পুনরাবৃত্তি করেন।

বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সতর্ক। কোনও ঘটনার অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সেনাদের সুরক্ষায় সব ধরনের রসদ সরবরাহ করছে।

তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা করে ইরান বড় ভুল করেছে। এতে উল্টো ওই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন বাড়িয়েছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন—এমন খবর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল চলবে না; এর পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here