নেত্রকোনা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (রবিবার)
বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তরের লক্ষ্যে রুফটপ সোলার (ছাদ সৌরবিদ্যুৎ) প্রযুক্তিকে দ্রুত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা।
রবিবার নেত্রকোনায় অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন ও প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-নেত্রকোনা (FED-Netrokona)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মোবিলাইজেশন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।

কর্মসূচিতে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিদ্যুৎ খাতে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশে FED-Netrokona-এর নেতৃবৃন্দ বলেন, রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল সমাধান হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এটি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাদের ভাষায়, “রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ।”
বক্তারা উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্কুল, হাসপাতাল ও গ্রামীণ বাজারের অব্যবহৃত ছাদগুলো সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই জ্বালানি বিপ্লব শুরু করা সম্ভব। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা হ্রাস পাবে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
তারা আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ করলে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক সৌরব্যবস্থা একটি সাশ্রয়ী ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
১. ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা;
২. সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের ছাদে বাধ্যতামূলক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন;
৩. সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা;
৪. জ্বালানি রূপান্তরে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা;
৫. জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ গ্রহণ।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত না করে কেবল কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি রূপান্তর সম্ভব নয়। এখনই রুফটপ সোলারকে অগ্রাধিকার না দিলে দেশ আবারও ব্যয়বহুল ও পরিবেশ-ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে।




