ময়মনসিংহে এসিড সারভাইভারদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের নতুন উদ্যোগ বিষয়ক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে

0
155

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:

এসিড ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে ময়মনসিংহে একটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। “এসিড এবং অন্যান্য সহিংসতায় দগ্ধ সারভাইভারদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনমান উন্নয়ন” শীর্ষক এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী সভার মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল। তিনি সংগঠনের চলমান কার্যক্রম এবং এসিড ও সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
প্রকল্পের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সামিয়া আহমেদ। তিনি জানান, ময়মনসিংহ জেলার ১৩৯ জন এসিড সারভাইভারের মধ্য থেকে নির্বাচিত ১০০ জনকে মানসিক কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ৩২ জনকে ব্লক-বাটিক ও সেলাই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনসুর আলম চন্দন সারভাইভারদের জন্য সেলাই মেশিন প্রদানের ঘোষণা দেন। মহানগর বিএনপির নেতা ও সমাজকর্মী মাহবুবুল আলম বলেন, এসিড সারভাইভারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং এ কাজে তিনি সহযোগিতা করবেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম, গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজনীন সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির প্রজেক্ট ম্যানেজার ইমন সরকার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। উদ্বোধনী সভায় প্রকল্পের ২০ জন সুবিধাভোগী এসিড সারভাইভারও অংশ নেন।
এ প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে একটি প্রেশার গার্মেন্টস উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা বার্ন চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকেরা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে এসিড ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here