অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে জটিলতায় চিকিৎসা না পেয়ে নবজাতকের মৃত্যু, কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ

0
198

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, মাত্র ৫০০ টাকার ভাড়া নিয়ে বিরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্ব হওয়ায় শিশুটিকে দ্রুত ময়মনসিংহে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় স্বজনদের কান্না ও বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স চালক পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

নিহত নবজাতক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রোহানের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহে রেফার করেন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের গেটে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স খোঁজেন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া দাবি করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা হলেও তারা প্রথমে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, পরে ৪ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু চালকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সিন্ডিকেটভুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে দেননি। ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ সময় তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকায় চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটে এবং রাত ৩টার দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুর নানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু কেউ নিতে রাজি হয়নি। সিন্ডিকেটের জন্যই আমার নাতির মৃত্যু হয়েছে।”

শিশুটির দাদা জুয়েল মিয়া বলেন, “ভাড়া নিয়ে কথা বলতে বলতেই আমার নাতি মারা যায়। কেউ তাকে নিতে রাজি হয়নি।”

শিশুটির বাবা মো. রোহান বলেন, “হাসপাতালের এত কাছ থেকেও যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে দূরের রোগীদের কী হবে? আমি এই ঘটনার বিচার চাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা বাইরের অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা দেয় এবং রোগীদের জোরপূর্বক নিজেদের গাড়ি ব্যবহার করতে বাধ্য করে। সরকারি ভাড়ার তুলনায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযুক্ত চালকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আগে জানতাম না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্মা জানান, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here