ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। বিকেলের পর থেকেই স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য ভিড় দেখা যায়।
ঈদ উপলক্ষে আগাম টিকিটধারীদের ট্রেনযাত্রা শুরু হয় গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে। সে হিসেবে সোমবার ছিল ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন। প্রথম তিন দিনে তুলনামূলক ভিড় কম থাকায় অনেক যাত্রী স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারলেও সোমবার থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। স্টেশনে অপেক্ষমাণ ট্রেন এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাত ৮টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও বুড়িমারীর উদ্দেশে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ছেড়ে যায়। উত্তরাঞ্চলগামী এই ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করা হলেও যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল। অনেককে ঠেসে ঠেসে বগিতে উঠতে দেখা যায়, কেউ কেউ গেট ধরে ঝুলে যাত্রা করেন। তবে নিরাপত্তার কারণে ট্রেনের ছাদে কাউকে উঠতে দেয়নি স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
রংপুরে দাদার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাবা-মা ও দুই বোনকে নিয়ে স্টেশনে আসে মুন্নি। সে জানায়, বাবার অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় তারা একটু দেরিতে স্টেশনে পৌঁছান। আগাম টিকিট থাকা সত্ত্বেও তারা নির্ধারিত বগি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর ট্রেন ছাড়ার ঘোষণা দিলে তাড়াহুড়ো করে তারা একটি বগিতে উঠে পড়েন।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে স্টেশনে পৌঁছানোয় ট্রেন মিস করেছেন জসিম, ছাইদুল ও রোকন নামে তিন বন্ধু। তারা রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু রাত ৮টা ১০ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছে দেখেন ট্রেন ইতোমধ্যে ছেড়ে গেছে।
তাদের অভিযোগ, সাধারণত ট্রেন নির্ধারিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে ছাড়ে বলে ধারণা ছিল। কিন্তু সেদিন নির্ধারিত সময়েই ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় তারা অল্প সময়ের ব্যবধানে ট্রেন মিস করেন। ফলে এখন বাসে করে যেতে হবে, এতে খরচ যেমন বাড়বে তেমনি ভোগান্তিও বেশি হবে।
শুধু কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নয়, অন্যান্য ট্রেনও নির্ধারিত সময় মেনে স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে। এতে সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানো যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও অনেকেই অভিযোগ করেছেন— টিকিট কেটে রাখলেও ভিড়ের কারণে নির্ধারিত বগি বা আসনে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
রেলওয়ের টিটিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন দিনের তুলনায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিনে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বুধবার পর্যন্ত অফিস থাকায় ওইদিন ঈদযাত্রার সবচেয়ে বেশি ভিড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




