মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের মিতব্যয়ী পদক্ষেপ ও সঞ্চয় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। এর ফলে বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহে বাধার মুখে পড়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সরকার সারা দেশে ব্যয় সংকোচন ও মিতব্যয়ী নীতি গ্রহণ করেছে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, পুরো অঞ্চল বর্তমানে সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও সন্ত্রাসবাদের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে। এ সময় চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন শেহবাজ শরিফ। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলার ঘটনাও তিনি নিন্দা জানান।
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কয়েকটি ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- জ্বালানি সাশ্রয়: আগামী দুই মাস সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে এবং সরকারি দপ্তরের ৬০ শতাংশ গাড়ি ব্যবহার বন্ধ থাকবে।
- বেতন কাটছাঁট: ফেডারেল মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা আগামী দুই মাস কোনো বেতন নেবেন না। এছাড়া সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।
- ব্যয় কমানো: সব সরকারি দপ্তরের ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- বিদেশ সফর সীমিত: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ সফর বন্ধ রাখা হবে। ভার্চুয়াল মিটিং ও টেলি কনফারেন্সকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
- অন্যান্য সিদ্ধান্ত: ৩ লাখ রুপির বেশি বেতন পাওয়া ২০তম গ্রেড বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন কেটে নেওয়া হবে। সরকারি পর্যায়ে সব ধরনের নৈশভোজ ও ইফতার পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- কর্মঘণ্টা পরিবর্তন: জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ কর্মী বাসা থেকে কাজ করবেন (ওয়ার্ক ফ্রম হোম)। সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। তবে ব্যাংকিং খাত এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।
- শিক্ষা খাত: চলতি সপ্তাহের শেষ থেকে স্কুল দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হবে।
সূত্র: জিও নিউজ




